পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে - এক অলৌকিক রহস্যের নাম

পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে - এক অলৌকিক রহস্যের নাম

যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় এবং পবিত্র স্থান কোনটি, তাহলে হাজারো মানুষের উত্তর হবে একটাই। আর সেটা হলো পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে অবস্থিত। 

হিমালয়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত শুধু একটি পর্বত নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি এবং আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু।আজ আমরা বিস্তারিত জানব কেন বলা হয় পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে এবং কেন আজ পর্যন্ত আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও এই মন্দিরের রহস্য ভেদ করতে পারেনি।


পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে কেন বলা হয়?


অনেকেই ভাবেন কৈলাসে কি আসলেই কোনো মন্দির আছে? হ্যাঁ, আছে। তিব্বতে অবস্থিত ৬,৬৩৮ মিটার উচ্চতার কৈলাস পর্বতকেই হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং বন ধর্মের অনুসারীরা একটি জীবন্ত মন্দির হিসেবে পূজা করেন। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, এই পর্বতের চূড়ায় স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব তার পরিবার নিয়ে বাস করেন। এখানে তিনি ধ্যানমগ্ন অবস্থায় আছেন। তাই পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে বলা হয়।


এই পর্বতের গঠনও একটি রহস্য। উপর থেকে দেখলে মনে হয় একটি বিশাল শিবলিঙ্গ। এর চারটি দিক চারটি ধর্মের প্রতীক - উত্তর দিক সোনার মতো, দক্ষিণ দিক নীলকান্তমণির মতো, পূর্ব দিক স্ফটিকের মতো এবং পশ্চিম দিক পদ্মরাগ মণির মতো উজ্জ্বল। এমন নিখুঁত এবং অলৌকিক স্থাপত্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে।


ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে


চারটি প্রধান ধর্মের কাছে কৈলাস পর্বত সর্বোচ্চ তীর্থস্থান।


১. সনাতম ধর্মে: সনাতনীদের বিশ্বাস, পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে কারণ এটি শিবের ধাম। শিবপুরাণ অনুসারে, এই স্থানে মহাদেবের আশীর্বাদে সকল পাপ মোচন হয়। কৈলাস পরিক্রমা করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ থেকে মুক্তি মেলে।


২. বৌদ্ধ ধর্মে: বৌদ্ধরা কৈলাসকে কাং রিনপোচে নামে ডাকেন। তাদের বিশ্বাস, এখানে বুদ্ধের একটি রূপ ডেমচকের বাস। তাই তারাও মনে করেন পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে।


৩. জৈন ধর্মে: জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ এই পর্বতে এসে মোক্ষ লাভ করেছিলেন।


৪. বন ধর্মে: তিব্বতের প্রাচীন বন ধর্মের অনুসারীরা মনে করেন তাদের দেবতা টোনপা শেনরাব এই পর্বত থেকে পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন।


এই চার ধর্মের মিলনস্থল হওয়ায় এর পবিত্রতা প্রশ্নাতীত। এই কারণেই বারবার বলা হয়।পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে।


কেন পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে আজও অজেয়?


পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট মানুষ বহুবার জয় করেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কৈলাস পর্বত যার উচ্চতা এভারেস্টের চেয়ে অনেক কম, তা আজও কেউ জয় করতে পারেনি। এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে এবং এটি অজেয়।


ইতিহাসে দুজন পর্বতারোহী চেষ্টা করেছিলেন। ১৯২৬ সালে হিউ রাটলেজ এবং ১৯৩৬ সালে হার্বার্ট টিচি। দুজনেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। তাদের মতে, পর্বতের কাছে যেতেই আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়, দিক নির্ণয় যন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং মনে হয় পর্বত যেন তাদের ফিরে যেতে বলছে। পরবর্তীতে চীন সরকার ২০০১ সালে কৈলাস আরোহণে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে। তাই বৈজ্ঞানিকভাবেও স্বীকৃত যে পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে এবং এটি মানুষের জয় করার জন্য নয়, শুধু পূজা করার জন্য।


বৈজ্ঞানিক রহস্য যা প্রমাণ করে পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে


বিজ্ঞানীরাও কৈলাস নিয়ে হতবাক।


১. সময়ের খেলা: বলা হয় কৈলাস পর্বতে সময় খুব দ্রুত চলে। যারা পরিক্রমা করেছেন, তারা বলেছেন তাদের নখ, চুল ২-৩ সপ্তাহে যতটা বাড়ার কথা, ১২ ঘণ্টায় ততটা বেড়ে গেছে। নাসার বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন যে এখানে সময়ের গতিতে অস্বাভাবিকতা আছে।


২. পৃথিবীর কেন্দ্র: অনেক গবেষক মনে করেন কৈলাস পর্বত পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থিত। এটি উত্তর মেরু থেকে ৬৬ কিমি, দক্ষিণ মেরু থেকে ১৩৩৩২ কিমি দূরে। স্টোনহেঞ্জ থেকেও এর দূরত্ব ৬৬৬৬ কিমি। এই নিখুঁত জ্যামিতিক অবস্থান প্রমাণ করে পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে কোনো সাধারণ স্থানে নয়।


৩. দুটি হ্রদ: কৈলাসের পাদদেশে দুটি হ্রদ আছে - মানস সরোবর এবং রাক্ষস তাল। একটি মিষ্টি জলের হ্রদ, অন্যটি লবণাক্ত জলের। পাশাপাশি থেকেও তাদের জল কখনো মেশে না। এটা প্রকৃতির এক অলৌকিক লীলা।


৪. ওম ধ্বনি: কৈলাসের কাছে গেলে অনেকেই বাতাসে ওম ধ্বনি শুনতে পান। যখন বরফ গলে তখন এই শব্দ আরও স্পষ্ট হয়।


এই সমস্ত রহস্যই বারবার মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে অবস্থিত।


পবিত্র কৈলাস পরিক্রমা - মুক্তির পথ


কৈলাসের চূড়ায় ওঠা নিষিদ্ধ হলেও এর চারপাশে ৫২ কিলোমিটারের পরিক্রমা করা যায়। এই পরিক্রমা তিন দিনে সম্পন্ন হয়। বিশ্বাস করা হয়, একবার পরিক্রমা করলে এক জন্মের পাপ মোচন হয় এবং ১০৮ বার পরিক্রমা করলে মোক্ষ লাভ হয়।


যারা এই পরিক্রমা করেছেন, তারা বলেন এই যাত্রা শুধু শারীরিক নয়, আত্মিক। এই যাত্রায় মানুষ নিজেকে নতুন করে চেনে। তাই তো প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত কষ্ট সহ্য করেও ছুটে যান, কারণ তারা জানেন পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।


উপসংহার


পরিশেষে বলা যায়, কৈলাস শুধু একটি পর্বত নয়, এটি একটি বিশ্বাস। এটি প্রমাণ করে যে বিজ্ঞানের উর্ধ্বেও কিছু আছে। মানুষ চাঁদে যেতে পারে, মঙ্গলে যেতে পারে, কিন্তু ভক্তির কাছে তাকে মাথা নত করতেই হয়। আর সেই ভক্তির সর্বোচ্চ নিদর্শন হলো পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে।


যদি আপনি জীবনে একবারও সত্যিকারের শান্তি পেতে চান, একবার কৈলাসের নাম জপ করুন। কারণ পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র ও অজেয় মন্দিরটি কৈলাসে আজও আমাদের ডাকছে, তার রহস্য, তার পবিত্রতা এবং তার অজেয় রূপ নিয়ে। 

ওঁ তৎ সৎ🌿

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সৃজনশীল বিন্দুর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url