যেভাবে ২০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়লেন শাকিব খান

যেভাবে ২০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়লেন শাকিব খান:শাকিব খানের মোট সম্পদ

শাকিব খানের মোট সম্পদ কত? ২০ মিলিয়ন ডলার বা ২০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য কীভাবে গড়লেন ঢালিউডের এই তারকা?

শাকিব খান

বরবাদ, তুফান, SK Films, বিজ্ঞাপন ও শোরুম থেকে তার আয়ের পুরো হিসাব জানুন।


ঢালিউডে যদি একটা সাম্রাজ্য থাকে, তার সেরা তারকা হলেন শাকিব খান। নারায়ণগঞ্জ থেকে উঠে আসা মানুষটি আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা। অনেকেই গুগলে সার্চ করেন - শাকিব খানের মোট টাকা কত? বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী শাকিব খানের নেট ওয়ার্থ প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০০ থেকে ২৪০ কোটি টাকা। এই টাকা একদিনে আসেনি। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ২৫ বছরের পরিকল্পিত ক্যারিয়ারের ফসল এই সাম্রাজ্য।


অনেকে ভাবেন শুধু সিনেমা করেই এত টাকা। কিন্তু আসল গল্পটা তার পরিশ্রম মেধা এবং ধৈর্যশীলতা। নিচে কিছু তথ্যের ভিত্তিতে তার জীবনের এগিয়ে যাওয়ার গল্পের একটি বর্ণনা তুলে ধরা হলো।


১. সিনেমার পারিশ্রমিক - সাম্রাজ্যের ভিত্তি


শাকিব খানের ক্যারিয়ারের শুরুতে পারিশ্রমিক ছিল খুব কম। কিন্তু একের পর এক হিট সিনেমা যেমন শিকারি, নবাব,প্রিয়তমা তাকে অপরিহার্য করে তোলে। গত ১০ বছর তার পারিশ্রমিক ছিল ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে প্রিয়তমা ব্লকবাস্টার হওয়ার পর তিনি তার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বরবাদ সিনেমার জন্য তিনি ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। আর নতুন সিনেমা প্রিন্স এর জন্য ৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক চেয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আগে তিনি বছরে ১০-১২ টা সিনেমা করতেন, এখন তিনি বেছে বেছে বছরে ২-৩ টা বড় বাজেটের সিনেমা করেন। কম কাজ, বেশি দাম - এটাই তার প্রথম বিজনেস স্ট্র্যাটেজি।


২. বক্স অফিস শেয়ার - যেখানে আসল টাকা


এখন শাকিব খান শুধু অভিনেতা নন, তিনি একটি গ্যারান্টি। তার নামে সিনেমা চলে। এই কারণে এখন তিনি শুধু পারিশ্রমিক নেন না, সিনেমার লাভের শেয়ারও নেন। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া তুফান সিনেমা ৫৬ কোটি টাকা আয় করে ঢালিউডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা হয়েছিল। আর এবার তার নিজের রেকর্ড তিনি নিজেই ভাঙতে চলেছেন। বরবাদ সিনেমা মুক্তির ২০ দিনেই ৫০ কোটি ৮২ লাখ টাকা গ্রস কালেকশন করেছে। প্রথম ৭ দিনেই আয় ছিল ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। যখন একটা সিনেমা ৫০ কোটি আয় করে, তখন তার ১০% শেয়ারও ৫ কোটি টাকা। এভাবেই তার সম্পদ বাড়ছে।


৩. SK Films - নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান


সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজটি তিনি করেছেন নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুলে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম SK Films। এক সময় অন্য প্রযোজকদের কাছে পারিশ্রমিকের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, এখন তিনি নিজেই প্রযোজক। BFDC তে একবার তিনি একসাথে ৪ টা সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নিজের সিনেমা নিজে প্রযোজনা করলে লাভের পুরো টাকাটাই তার কাছে থাকে। এটা তার ২০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় গতি।


৪. বিজ্ঞাপন, শোরুম উদ্বোধন ও ইভেন্ট


এই খাত থেকে তার আয় আকাশছোঁয়া। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, একটি শোরুম উদ্বোধন করতে মাত্র ২০ মিনিটের জন্য শাকিব খান ৩৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। ভাবা যায়? এছাড়া বিভিন্ন টিভি বিজ্ঞাপন, কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে, স্টেজ শো থেকে তার প্রতি মাসে কোটি টাকার উপর আয় আসে। সিনেমার বাইরেও তিনি একটি বড় ব্র্যান্ড।


৫. বিদেশের বাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ


শাকিব খানের সিনেমা এখন শুধু বাংলাদেশে না, আমেরিকা, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্যে মুক্তি পায়। সেখান থেকে ডলারে আয় আসে। এছাড়া ঢাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট, জমি এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে বলে শোনা যায়।


তাই শাকিব খানের ২০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য কোনো লটারি নয়। এটা হলো কম সিনেমা, বেশি কোয়ালিটি, নিজের প্রযোজনা এবং সিনেমার বাইরে নিজেকে ব্র্যান্ড বানানোর ফল। তিনি ঢালিউড এর সর্বোচ্চ স্থানের ব্যাক্তি, কারণ তিনি শুধু অভিনয় বোঝেন না, ব্যবসাটাও বোঝেন।সৃজনশীল বিন্দুর নজরে, তিনি একজন মহান তারকা।

তথ্যসূত্র:ইন্টারনেট

সৃজনশীল বিন্দু, রাজশাহী 




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সৃজনশীল বিন্দুর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url