আর মাত্র ৩১ দিন শারদীয়া দুর্গোৎসব: দেবী প্রকৃতি ও প্রকৃত তত্ত্ব
আর মাত্র ৩১ দিন
শারদীয়া দুর্গোৎসব: দেবী প্রকৃতি ও প্রকৃত তত্ত্ব
প্রকৃত স্বরূপ আসলে দেবী আসেন বা যান না , তিনি সৃষ্টি স্বরূপ এই প্রকৃতিতেই সুপ্রতিষ্ঠিতা।শারদীয়া দুর্গোৎসবের আসল তত্ত্ব ও দেবী প্রকৃতির গভীর দর্শন।
আর মাত্র ৩১ দিন বাকি। তারপরই শুরু হবে সনাতনী ধর্মাবলম্বী বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গা পূজা ২০২৬।
চারিদিকে প্রতিবারের মত হয়ত সাজ সাজ রব শুরু হবে। এই দুর্গোৎসব ২০২৬ কে ঘিরে হয়ত দোকানে নতুন জামাকাপড় উঠেছে, কুমোরপাড়ায় দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে হয়ত।
আমরা প্রতি বছর বলি দেবী আসছেন, আবার দশমীতে বলি দেবী চলে গেলেন। কিন্তু দুর্গা পূজার ইতিহাস ঘাঁটলে আসল সত্যিটা কি জানেন? দেবী প্রকৃতি কোথাও থেকে আসেনও না, কোথাও যানও না। আসুন মহালয়া ২০২৬ -র আগে বিষয়টি জানা যাক।
দেবী প্রকৃতি আসলে কী?
সহজ কথায় দেবী প্রকৃতি মানে হলো এই প্রকৃতি এই সৃষ্টি নিজেই। আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে - গাছ, নদী, আকাশ, মাটি - সবকিছুই সৃষ্টির অংশ। যে শক্তিতে গাছ বড় হয়, নদী বয়ে চলে, ফুল ফোটে, সেই শক্তিই হলো দেবী।
তাই তাকে আলাদা করে আসতে হয় না। শক্তি সবসময় তার আপন সৃষ্টিতে আছেন। এই শারদীয়া উৎসব আমাদের সেই কথাই মনে করায়। দিনের বেলা সূর্যের তেজে দিন আলোকিত হয়, আর রাতে চাঁদের ঠান্ডা আলোয় রাতটা সুন্দর হয়।
কিছুই না থাকলে তো প্রলয়! সকালে চাঁদ দেখা যায় না বলে কি চাঁদের অস্তিত্ব নাই? আসলে এভাবে সৃষ্টির চক্রকে বোঝানো হয়। এই কাল চক্রও শক্তির আপন লীলা।আর এই যাওয়া আসার গল্পটা এই গল্পের তার লীলার পূর্বাভাস বলা যেতে পারে।তবে কিছুই চূড়ান্ত না আমার ত্যাগ, সাধনায় চিরকাল নির্ধারন করে সৃষ্টির ছন্দে কি যোগ হবে না দূর্যোগ।
আমাদের জীবনেও ঠিক তাই । কখনো শক্তির দরকার হয়, কখনো শান্তির। দেবী কখনো শক্তি, কখনো শান্তি। কিন্তু তিনি সবসময় থাকেন।আমাদের ভেতরের জোয়ার-ভাটা।
যদি সূর্য আর চাঁদ দুটোই না থাকে তাহলে যেমন প্রলয়, তেমনি যদি আমাদের ভেতর থেকে সাহস আর ভালোবাসার সত্বগুণ চলে যায় তাহলে জীবন অসহনীয়। এই উপলব্ধিতেই সনাতন ধর্ম-এ প্রকৃতি পূজার এই আয়োজন। বিশ্বাস অন্তরে থাকলে শক্তির অনুভব সত্য হয়।
মহালয়া ও বিজয়ার আসল অর্থ
মহালয়া ২০২৬ -এ আমরা প্রতিবারের মত প্রতিকী দেবীসত্বাকে আহ্বান জানায়। মানে আমাদের ভেতরের সুপ্ত সাত্ত্বিকতার জাগরণ। আর দশমীতে বিসর্জন মানে ভেতরের অসুরত্বকে জলান্জলী দেওয়া।অসুর অন্ধকার ভাবের বিসর্জন দিয়ে সুরত্ব ও জ্ঞান ও সমৃদ্ধির আনয়নই সমস্ত আয়োজনের মর্মকথা।
এই আত্মপূজা হইতে শ্রেষ্ঠ কোন পূজা নাই। - আদি মহেশ্বর
শেষ কথা: **শারদীয়া দুর্গা পূজা ২০২৬**-র মর্মকথা হলো নতুনকে গ্রহণ আর অন্ধকারের বিনাশ।
ওঁ তৎ সৎ 🌿

সৃজনশীল বিন্দুর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url