মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ
মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ
আমরা জানি, মানুষ একটি অপার সম্ভাবনাময় জীব। মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীগণ, সুফী, সাধক, ভক্ত এবং সময়ের সাথে সাথে অনেক প্রতিষ্ঠান, অনুধাবন করার চেষ্টা করে গেছেন।
পেজ সূচিপত্র:
- মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ
- বিজ্ঞান ও বহুমাত্রিকতা
- বিচিত্র বহুমাত্রিক জীব হিসেবে মানুষ
- মানুষের কল্পনা এবং মহাবিশ্ব
- সভ্যতার বিবর্তনে মানুষ ও বহুমাত্রিকতা
- বহুমাত্রিক বিবেচনায় মানবমূল্যায়ন
- শেষ কথা:লেখকের মন্তব্য
মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা
আমরা মানুষ। ছোট্ট একটি যোগ-বিয়োগের হিসাব থেকে শুরু করে যে কোন বিষয়কে আমরা খুব সহজে বুঝতে চাই। কিন্তু যখনই আমরা আমাদের এই বিশ্লেষণ ক্ষমতার ব্যবহার করি, প্রায়শই আমরা আমাদের বিশ্লেষণ ক্ষমতার বহুমাত্রিক দিক সম্পর্কে অনবগত থাকি। সভ্যতার আদি লগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষ প্রকৃতি এবং পরিবর্তনের বিভিন্ন বিষয়কে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছে এবং যে কোন সমস্যার সঠিক সমাধান নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে। আমাদের মানব সভ্যতা অনেক প্রাচীন।মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করার পর আমরা সবাই কমবেশি, একই রকম ভাবে চিন্তা করি বলে মনে হয় কিন্তু আসলে কি তাই? যদি তাই হয় , তাহলে কেন শুধু দার্শনিক, বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিদগণই বিভিন্ন তত্ত্বের আবিষ্কার করে? আমরা সবাই যদি একই রকম ভাবে সমস্যা গ্রহণ এবং বিশ্লেষণ করি, তাহলে কেন আমরা সবাই, ঠিক, একই রকম ভাবে পৃথিবীতে নতুন নতুন তথ্যের আবিষ্কার এবং সংস্করণ করতে পারি না? মানুষ ও তার বহুমাত্রিক পরিচয় সম্পর্কে অনবগত হওয়ায় তার প্রধান কারণ।আমরা মানুষ আমাদের বহুমাত্রিক দিক ও পরিচয় রয়েছে।
মানুষ হিসেবে আমাদের ভাবনা এবং পরিচয় তুলে ধরার জন্য পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, সৃজনশীল, প্রযুক্তি এবং সম্ভাবনাগত বহুমাত্রা রয়েছে।যেমন পরিবারে আমরা কারো ভাই, পিতা বা মাতা আবার সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা কোন বিশেষ সেবা বা পদবীর অধিকারী কিংবা প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টগত পরিচয় বিভিন্নরকম হয়ে থাকে।এরকম আধ্যাত্মিক, মনস্তাত্বিক ও দার্শনিক মাত্রা ও পরিচয়ে আমরা আবদ্ধ রয়েছি।একেক মত, একেক পথ থেকে, মানুষ তার নিজেকে বোঝার এবং জানার অদম্য যে চেষ্টা, তা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের তত্ত্ব ও উদ্ভাবনের।জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আধ্যাত্মবিজ্ঞান একেক ধরনের উপলব্ধি, একেক রকমের ব্যাখ্যা করে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মোচন করেছেন।আবার সাধু, সিদ্ধ-সন্ন্যাসী, মহাত্মাগণের ভিন্ন দর্শনতত্ত্ব উপলব্ধি এ পথে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।এভাবেই মানুষ তার বহুমাত্রিকতার বিস্তার করেছে।
বিজ্ঞান ও বহুমাত্রিকতা:
পদার্থবিজ্ঞানে বহুমাত্রিকতার ব্যাপারটাকে খুব সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।পদার্থবিজ্ঞানে একটি তত্ত্ব রয়েছে, যে সবকিছুই শক্তি দ্বারা তৈরি বা এনার্জির প্রতিরুপ এবং আমরা যা দেখতে পাই তারও বিভিন্ন মাত্রা রয়েছে।যেমন, প্রথম মাত্রা, দ্বিতীয় মাত্রা, তৃতীয় মাত্রা যথাক্রমে ১ডি (ডাইমেনশন), ২ডি, ৩ডি এভাবে দৃশ্য ও অদৃশ্য স্তরে ১১টি ডাইমেনশনে ভাগ করা হয়েছে।যে ধারনাগুলো আমাদের মাঝে একটি অজানা অনন্ত গভীর রহস্যের দাগ কেটে দেয়।আমার যদি শুধু এই মাত্রাগুলো সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে পারি, আমরা সময়, আলো এবং দূরত্বের নিয়ম , গতি ও পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়মগুলোকেউ ইচ্ছে মত পরিবর্তন করতে পারব।ইতিমধ্যেই আমরা প্রযুক্তিগতভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে প্রবেশ করেছি।ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যেখানে মানুষ একস্থানে বসে অন্যস্থানে নিজের নিয়ন্ত্রণ, বিচরণ এমনকি স্পর্শ অনুভব পর্যন্ত করতে পারে।তাহলে বুঝতেই পারছেন যে মানুষ ও বহুমাত্রিক বিশ্লেষন ও গবেষণা কোন স্থান পর্যন্ত চলে গিয়েছে।
তো যাই হোক বিজ্ঞান এই সমস্ত মহাবিশ্বকে একটি বহুমাত্রিক শক্তিস্তর হিসেবে বলে, যার অধিকাংশটাই মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মানুষ চাইলেও উন্নততর স্তরগুলোকে দেখতে বা বুঝতে পারে না।কিন্তু এমনটা নয় যে মানুষের পক্ষে কোন কিছু অসম্ভব।এমনকি অনেক সাধকদের জীবনে তাদের কার্যক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ করা যায় তাদের বহুমাত্রিকতা ও ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্লেষন প্রক্রিয়া যা তাদের বিজ্ঞানের ঊর্ধ্বরুপ কিছুতে পরিণত করেছে।আমরা জানি, আমাদের ভেতরেও এমন অনেক সুপ্তস্তর রয়েছে যার দ্বারা আমরাও প্রথাগত সাধারণ গন্ডি পেরিয়ে নিজেদের উন্নত মানুষে রূপান্তর করতে পারি।মানুষের ব্রেইন, চোখ, স্নায়ু যেন শুধু এই রক্ত-মাংসরূপী কোন জীবরুপে মানুষকে পরিচয় করাতে চায়না। যেন, এই সকল কিছূর রয়েছে এক বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া, যার দ্বারা এই রক্ত মাংসের স্তূপের, ঊর্ধ্বে ওঠা যায় এবং মানুষ তার নিজের আরো গভীর তত্ত্বের সাথে, আত্ম পরিচয় লাভ করতে পারে ।
বিচিত্র ও বহুমাত্রিক জীব হিসেবে মানুষ:
মানুষ এই জগতের একটি বিচিত্র ও বহুমাত্রিক জীব।মানুষ তার ভাবনা-চিন্তাকে নিজের মত করে শুধু ভাবে না, নতুন তত্বকে জানে এবং প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের সাথে সমন্বয় করে পৃথিবীতে টিকেও থাকে।মানুষের মস্তিষ্কে, বিভিন্ন মাত্রার তরঙ্গ আলফা, বিটা, গামা, ডেলটা, থিটা অর্থাৎ বিভিন্ন মাত্রার ব্রেন ওয়েভ রয়েছে।মানুষ বহুমাত্রিক চিন্তা ও যোগাযোগও স্থাপন করতে পারে। এর প্রমান এবং সম্ভাবনার উল্লেখ বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া যায়।প্রাচীন সভ্যতার বিভিন্ন ইতিহাসে মানুষের সাথে অতিপ্রাকৃত জীব বা শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক ছিল বলেও পৃথিবীতে এর বাস্তব প্রমান রয়েছে।পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায়, সৃষ্টি বিভিন্ন স্তর বা ডাইমেনশন ভিত্তিক যেখানে সময় বা টাইম শুধু চতুর্থ স্তর মাত্র।
আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানীগণ এমন মতে সমর্থন করেন যে, আমরা মানুষ যদি এরকম হাইয়ার ডাইমেনশন বা স্তরগুলোকে বুঝতে বা ম্যানিউপুলেট করতে পারি, আমরা শুধু সময়কে না, পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়মনীতি কেউ অস্বীকার করতে পারব, মানে ইচ্ছে মত ব্যবহার করতে পারব।মানুষসহ মহাবিশ্বে অদৃশ্য পর্দার মত বহুমাত্রিক স্তরগুলো একে অপরের সাথে পেঁচিয়ে রয়েছে।যা আমরা আমাদের সাধারণ দৃষ্টি বা অনুভূতির দ্বারা বুঝতে পারি না ।
মানুষের কল্পনা এবং মহাবিশ্ব :
মানুষ যা কল্পনা করতে পারে তার একটি মাত্রাগত সত্যতা রয়েছে।আমরা যখন বাড়ি থেকে বের হই আমরা সাধারণত জানি না, পথে কোন মানুষটার সাথে আমাদের দেখা হতে পারে কিংবা শপিংএ গিয়ে প্রথমে কোন ড্রেসটা আমার হাতে আসবে কিন্তু আমরা একটা কল্পনা করি, আর সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে বাড়ি থেকে বের হই।কখনো কখনো আমাদের সিদ্ধান্তের অনুরুপ হয়। যদি আমাদের ব্রেনকে দেওয়া তথ্যের মধ্যে কোন সমস্যা না থাকে তবে অধিকাংশ সময়েই অনুরূপ হয় কিংবা কখনো কখনো ঘটনার এক আধটু অসামঞ্জস্য হতে পারে।মহাত্মাগণ বলেন মানুষের কল্পনা বহুদূর ভ্রমণ করতে পারে এবং এই কল্পনারও, মানুষ, বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ করেছে।বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকগনও মানুষের কল্পনার বহুমাত্রিক গুরুত্বকে স্বীকার করেছেন।আমরা অনেক সময় কোন শিশু ভুল করলে তাকে বকাবকি করি, ফেইল করলে তাকে মন্দ উক্তি করি কিন্তু প্রতিটা শিশুর যে বোঝার এবং আয়ত্ত করার মাত্রাগত একটি নিজস্ব নিয়ম রয়েছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।তাই প্রতিটা মানুষকে তার নিজস্ব সৃজনশীল বিচার ভঙ্গিতে যদি আমরা তৈরি করতে যাই তবে দেখা যাবে অনুন্নত রাষ্ট্রে আমাদের সিস্টেম কতটা ব্যর্থ, অপ্রাসঙ্গিক এবং বিপজ্জনক। তাই মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ দৃষ্টিভঙ্গিকে লক্ষ্য করে যে দেশ যত উপযুক্ত সিস্টেম তৈরি করে, তা হয় মানবতার জন্য ততটা প্রাসঙ্গিক, গ্রহণযোগ্য এবং ন্যায়উপযোগী।মানুষের মস্তিষ্ক একটি জটিল এবং দূর্বোধ্য সিস্টেম। বিজ্ঞানীরা মানুষ ও তার মস্তিষ্কের যখন বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ করেন তখন তারা বার বার অবাক হন।আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংগঠনগুলোও সেই বিষয়কে আলোকপাত করার প্রয়োজন বা তাগিদে নানা রকম পরিকল্পনা ও কার্যবিধি প্রয়োগ করে থাকেন।মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ করলে এর অনন্ত সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার দিক দেখতে পাওয়া যায়।প্রতিদিন আমাদের পৃথিবী এই বহুমাত্রিক সৃজনশীলতাকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। নতুন নতুন ফ্যাশন, টেক, মিউসিক ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে। আমরা পুরাতন কে ছেড়ে নতুনকে গ্রহণ করছি।আর এসব হচ্ছে মানুষ ও তার নিজ সমস্যার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ এর কারণে।মানুষের ধ্যান চিন্তা, আত্মনিমগ্নতা, আত্মবিশ্লেষণ তার বহুমাত্রিক সক্ষমতাকে জানার ও বোঝার উপায় দ্বারা, প্রতিটি মানুষ নতুনরুপে নিজেকে ফিরে পেতে পারে এবং হয়ত জানতে পারে তার নিজের সম্বন্ধে এমন কিছু দিক যা নিয়ে তার ঘটে এক নব বিবর্তন ।মানুষ যখন গভীর ধ্যান করে, তথন তার চিন্তুা এবং চৈতন্যে এক অনবদ্য সমন্বয় দেখা যায় যা প্রমানিত এবং গভীর ধ্যান বহুমাত্রিক ভাবে মানুষকে বিশেষ চৈতন্যগত উন্নতি এবং নিয়ন্ত্রন প্রদান করতে পারে যা সরাসরি শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক অতিমাত্রিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত ।
সভ্যতার বিবর্তনে মানুষ ও বহুমাত্রিকতা:
আমরা জানি, যে আমরা এ গ্রহের নতুন কোন সভ্যতা নই।আমাদের পূর্বেও হাজারো সভ্যতা, এই পৃথিবীর দ্বারপ্রান্ত ভ্রমন করে, অবশেষে বিলুপ্ত হয়েছে।সেসকল সভ্যতার মানুষ, তাদের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ শক্তি দ্বারা এমন কিছু প্রযুক্তিগত মাত্রাদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা আমাদের বর্তমান বিজ্ঞানও তার বিশ্লেষণ ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।মিশরের পিরামিড এর মত বড় স্থাপনাগুলোর বিশেষ বহুমাত্রিক সক্রিয়তার প্রমান পাওয়া গেছে যা অতি রহস্যময় এবং বিচিত্র।কিছু কিছু সভ্যতা ও সংস্কৃতি সরাসরি মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষন রহস্য জানার ওপর জোর দেয় ।যেমন বর্তমান বিশ্বে যেসকল ধর্ম বা লোকবিশ্বাস প্রচলিত কম বেশি সব নিয়মেই, মানুষকে তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে জানার এবং বোঝার ওপর জোর দেয়।ধর্মীয় বিশ্বাস ও তাদের পুঁথির রেকর্ড অনুযায়ী, মানুষ বহুমাত্রিক সম্ভাবনার দ্বারা বেষ্টিত এবং মানুষের, বহুমাত্রিক প্রাণী এবং বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতি শক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তার নজির রয়েছে।
ধর্ম তত্বগুলো বলে থাকে যিনি সৃষ্টিকর্তা তাকে সাধারণভাবে দেখা যায়না কিন্তু মানুষ ও তার বহুমাত্রিক বিশ্লেষন উপলব্ধি দ্বারা তার সান্নিধ্য লাভ করতে পারে ।আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাই কার্দাশেভ , মানব সভ্যতার বহুমাত্রিক শক্তির ন্যায়উপযুক্ত ব্যবহার মাপার জন্য কার্দাশেভ স্কেলের প্রস্তাব করেন। যেখানে টাইপ-১ , টাইপ-২ রুপে উন্নত সভ্যতার মাত্রাগত মাপদন্ড স্থাপন করা হয়েছে।এখনো বিভিন্ন ট্রাইব বা উপজাতি সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের ভেতরে রয়েছে স্তরগত প্রকৃতি বিশ্লেষণ ও সমন্বয় সংস্কৃতি।আধ্যাত্বিক স্তরগত ভাবে বলতে গেলে তারা সাধারণ বিষয়াবলীকে স্তরগত বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে এক বিশেষ জীবনপ্রণালী আয়ত্ত করতে সক্ষম যা তাদের এই বিশ্বাস প্রদান করে যে, তারা এভাবে প্রকৃতি দ্বারা নিরাপদ হবে এবং প্রকৃতিকেউ বসবাস উপযুক্ত ও নিরাপদ রাখতে পারবে। যেমন তাদের ধারনা অনুযায়ী দেখা যায়, তারা অনিয়মিত ঝড় বৃষ্টি বা দুর্যোগকে প্রাকৃতিক অভিশাপ বলে মনে করে, কিন্তু আমাদের বিজ্ঞান অনুযায়ী শক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও দূষণ, দুর্যোগের কারন হতে পারে ।
বহুমাত্রিক বিবেচনায় শিক্ষাপদ্ধতির গঠন:
বহুমাত্রিক বিবেচনা মানবমূল্যায়নে এক চিরঅভিনব ধারনা।উন্নত শিক্ষা সংস্কৃতির জন্য, এটি অবশ্যই সহায়ক।মানুষ অবশ্যই বহুমাত্রিক, সৃজনশীল, সম্ভাবনাময় একটি অসাধারন সৃষ্টি।কিন্তু মানুষ হিসেবে নিজের বহুমাত্রিক সম্ভাবনা বা বিশ্লেষন শক্তি বা ইচ্ছার ঘাটতি থাকলে, সে নিজেকে কখনো জানতে পারেনা ।
আত্মজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, তথ্য ও সাধনা মানুষকে ধীরে ধীরে সেই সম্ভাবনার দুয়ারকে অতিক্রম করার পথ প্রদান করে, যা একটি আত্ম অনুপলব্ধ প্রাণী কখনো বুঝতে পারে না।সেকারনেই হয়ত মানুষ ও অন্য প্রাণীদের মধ্যে এক পার্থক্য রয়ে গেছে।যেসকল সভ্যতা উৎকর্ষের দ্বারপ্রান্ত উন্মোচন করেছে তারা তাদের বহুমাত্রিক চিন্তা চেতনার সফলতার দ্বারা করেছে।তাই, মানব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তার দূরদৃষ্টি এবং বহুমাত্রিক সম্ভাবনার বিষয়কে বিশ্লেষণের আড়াল করলে প্রকৃত মূল্যায়ন অসম্ভব।
শেষ কথা: লেখকের মন্তব্য
বহুযুগ পেরিয়ে আমরা আজ একুশ শতকে পা রেখেছি।প্রতিনিয়ত আমরা জাতি হিসেবে নিজেদের বস্তু-অবস্তুগত বিকাশ এবং আমাদের প্রযুক্তি ভাবনার নব দিগন্তকে উন্মোচন করতে চাই।আর সেকারণে যেকোন বিষয়বস্তুর থেকে শুরু করে এমনকি মানুষের নিজ চিন্তার ও কাজের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের কোন বিকল্প নেই , হয়ত এটাই মানুষের সর্বোচ্চ স্তরের বুদ্ধিমত্তা মেটাকগনিশনকে ত্বরান্বিত করার এক অসামান্য অবলম্বন হতে পারে।






সৃজনশীল বিন্দুর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url