পাখির ডাক প্রকৃতির এক অনন্য বিষ্ময়।

পাখির কলকাকলি এক স্বর্গীয় সম্পদ

গভীর ঘন অন্ধকারের রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটতেই, প্রথম আলোর সংকেতবার্তা বাহক হিসেবে যে ডাক আমাদের কানে ভেসে আসে তা হলো পখির ডাক।বিভিন্ন পাখির কলকাকলিতেই এক বিচিত্র খুশির আত্মপ্রকাশ করে প্রকৃতি।

প্রকৃতি প্রেমী মানুষদের কাছে এ ডাক যেন কল্পিত কোন স্বর্গের বার্তাবাহক দূতের মত।আসুন আজ বিস্তারিত জানি, কেন এবং কিভাবে, পাখিরা তাদের ডাকের দ্বারা স্পন্দিত করে ভাবতরঙ্গ এবং কিভাবে তা আমাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ।

পেজ সুচিপত্র:

  • পাখি আমাদের বন্ধু
  • সৃষ্টির আদি সুরসমন্বয়ক
  • পাখির ডাক এবং শিথিলায়ন
  • সৃজনশীলতার প্রতীক
  •  শব্দতরঙ্গ ও তার আশীর্বাদ
  • তাদের রক্ষায় আমাদের করনীয়
  • উপসংহার
১.আমাদের বন্ধু হিসেবে পরিচয়:

ছোট থেকেই শালিক , কোয়েল এর সাথে আমরা সবাই সুপরিচিত।গ্রাম বাংলার সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে  পাখি সকলের বন্ধু।যদি আপনার মন খারাপ থাকে নদীর ধারে কিংবা ধানের ক্ষেতে কিংবা কোন অরন্য ঘেরা প্রাঙ্গনে একা বসে থেকে যদি পাখির কথা মন দিয়ে শোনেন তা আপনাকে সম্পুর্ন এক অন্য রকম শান্তি দিয়ে থাকে।ফসল ফলাদিতেও এরা আমাদের বিভিন্ন ভাবে সাহাজ্য সহযোগিতা করে থাকে।প্রকৃতিপ্রেমীরা অনেকেই একামনে প্রকৃতি নিবিড় কোন স্থানে তাদের কলকাকলিতে মুগ্ধ হন । তাদের মধ্যে অনেকেই ক্যামেরা ও লেন্স নিয়ে বনে গিয়ে তাদের জীবন প্রণালীর সুন্দর উপস্থাপনায় আত্ম নিয়োগ করেন।তাদের উপস্থিতি ও বৈচিত্র সবসময় সৃষ্টিকে করে থাকে প্রানবন্ত।

২.সৃষ্টির আদি সুরসমন্বয়ক:

পাখির গান যেন এ সৃষ্টির আদি সুর।যেন কোন এক আদিকাল থেকেই পাখি তার গান দিয়ে সৃষ্টিকে সুরময় করে তুলেছিল।এটি সম্পুর্ন ইকো সিস্টেমের নীরবতাকে প্রানবন্ত স্বরে সমন্বয় করা এক প্রানী।তার ডাকে যেন লুকিয়ে আছে সৃষ্টির কতো রহস্য অজানা তথ্য যা হয়ত আমরা বুঝিনা শুধু তাদের স্বচ্ছ সজীব বৈচিত্রকেই করে চলেছি জীবনের অংশ ।


৩.পাখির ডাক এবং শিথিলায়ন:

মানুষের শরীরে শিথিলায়ন এমন এক যোগীক অবস্থা যেখানে তার নার্ভাস সিস্টেম সম্পুর্ন দুশ্চিন্তুামুক্ত থাকে।মানুষের মন যেমন মুক্ত থাকতে চায় পাখির ডাকও মন ও শরীরের ওপর তেমন এক সংহতি সৃষ্টি করে ।মুক্ত পাখির ডাকে, অবচেতন মন, যেন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে থাকে।আধুনিক বিভিন্ন সাউন্ড থেরাপীর জন্য এখন কৃত্রিম পাখির ডাক ব্যাবহার করা হচ্ছে যেন এটি প্রশান্তি দিয়ে, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকে শিথিলায়নে সাহাজ্য করতে পারে ।

৪.সৃজনশীলতার প্রতীক:

প্রতিটি পখি যেন এক একটি সৃজনশীলতার প্রতীক।তাদের রং জীবনপ্রণালী , ডাক , এবং কাজ সব মিলিয়ে এটি প্রতিনিয়ত সৃষ্টিশীলতার পরিচয় ঘটায়।কিছু পাখি তাদের নিজের বাসা নিজে তৈরি করে থাকে যা দেখতে অসাধারন কারো আবার শিকার পদ্ধতি বৈচিত্র্যময়।কারো পালকের রং রঙিন কারো বা চিন্তা ধরন সম্পুর্ন ব্যাতিক্রম।টিকে থাকার সংগ্রাম ও একেক প্রজাতির একেক রকম ।

৫.শব্দ তরঙ্গ ও তার আশীর্বাদ:

গভীর বনগুলোতে দেখা যায়। তারা যেন এক বিশেষ পদ্ধতিতে বনকে রক্ষনাবেক্ষন করছে।তাদের শব্দতরঙ্গের রয়েছে এক বিশেষ সংকেত ।আধুনিক বিজ্ঞান গবেষনায়ও দেখা গেছে পাখির ডাক মানুষের শরীরে "কর্টিসল" নামক স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং মাত্র ৬ মিনিট পাখির ডাক শুনলে মানুষের ভেতরের উদ্বেগ , মানসিক বিষন্নতা এবং অহেতুক ভীতি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায় ।


এই তরঙ্গে মস্তিষ্কে শান্তিময় আলফা তরঙ্গ তৈরি হয়।এতে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়ক হয়।মানসিক প্রশান্তি তথা মানব আয়ু বৃদ্ধির জন্য অবশ্যই পাখি সহায়ক প্রাণী।এটি আমাদের সজীব জীবন গঠনে এক প্রকার গ্রীন নয়েজ।

৬.তাদের রক্ষায় আমাদের করনীয়:

পাখি আমাদের জীবনে উপকারী প্রাণী।তাদের সংরক্ষন আমাদের অবশ্য কর্তব্য।ধীরে ধীরে গ্রাম থেকে শহরমুখী যাত্রায় আমরা ক্রমাগত এই উপকারী বন্ধুদের হাড়িয়ে ফেলছি ।তাদের আবাস স্থল নষ্ট হয়ে তারা গৃহহীন হয়ে পড়ছে।নির্বিচারে ফাঁদ পেতে শিকার করে অবৈধ বানিজ্যের দ্বারা তাদের জীবন আজ সংকটের মুখে।গত এক শতাব্দিতে প্রায় ১৯ প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেসে ।এখনই তাদের রক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।আবাসস্থল , খাদ্য ও পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং কঠোর পাখি সংরক্ষন আইন প্রয়োগ করে আমরা দ্রুত তাদের টিকে থাকার পথকে সুগম তরতে পারি।


উপসংহার:

ইংরেজী কাব্যে একটি কথা আছে যা সত্য, তাই সুন্দর।সৃষ্টির অগ্রিম বার্তাবাহক এই প্রাণীগুলোকে আমরা যদি সঠিক দৃষ্টিতে আমাদের জীবনে তাদের ব্যাবহার আর মুল্যায়ন করতে পারি , হতে পারে তারাও আমাদের অনেক অজানা রহস্যের কুয়াশা ভেদ করে, আমাদের আরও জ্ঞানী, সুস্থ ও সমৃদ্ধ করতে বড় অবদান রাখে ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সৃজনশীল বিন্দুর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url